Showing posts with label শিক্ষা-বিনোদন. Show all posts
Showing posts with label শিক্ষা-বিনোদন. Show all posts

Tuesday, February 4, 2025

স্যাট পরীক্ষার গুরুত্ব

স্যাট পরীক্ষার গুরুত্ব

 




স্নাতক পর্যায়ে বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য যাঁদের প্রথম পছন্দ যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডা, স্যাট (SAT) তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা গ্রহণের জন্য কতখানি তৈরি, এই পরীক্ষার মাধ্যমে তা যাচাই করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের সঙ্গে স্যাট স্কোর জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি বাধ্যতামূলক নয়, সেসব ক্ষেত্রেও শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার জন্য স্যাট পরীক্ষার স্কোর বেশ কাজে দেয়।

পরীক্ষাপদ্ধতি

Critical reading, math writing এই তিনটি অংশে ভাগ করা হয়েছে ৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের স্যাট পরীক্ষাকে। প্রতি অংশে ৮০০ করে মোট ২৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

Critical reading-এ মূলত শব্দজ্ঞান, ছোট-বড় বিভিন্ন passage পড়ে অনুধাবন করার ও তার ওপর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। math অংশের প্রশ্নগুলোর মধ্যে রয়েছে পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি ও ত্রিকোণমিতি-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানজনিত প্রশ্ন। writing অংশে থাকে বাক্য ও প্যারাগ্রাফ উন্নতিকরণ সম্পর্কিত প্রশ্ন, যেখানে একাধিক সম্ভাব্য উত্তরের মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি খুঁজে বের করতে হয়। এ ছাড়া এ অংশে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর একটি রচনা লিখতে হবে, যার জন্য সময় বরাদ্দ মাত্র ২৫ মিনিট।
স্যাট পরীক্ষায় সর্বনিম্ন স্কোর ৬০০ এবং সর্বোচ্চ স্কোর ২৪০০। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির আবেদনের জন্য কোনো ন্যূনতম স্কোরকে আবশ্যক হিসেবে উল্লেখ করা হয় না, তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর স্কোর ২০০০ থেকে ২৪০০-এর মধ্যে হয়ে থাকে।

কোথায়, কীভাবে পরীক্ষা

স্যাট পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রথমেই স্যাটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (www. collegeboard. org) গিয়ে অনলাইনে নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। পরীক্ষা দেওয়ার কমপক্ষে এক মাস আগে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা জরুরি। বাংলাদেশে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য খরচ পড়বে ৯২ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে সাত হাজার টাকা। এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজন হবে পাসপোর্ট এবং পিপি ছবির ডিজিটাল কপি। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে পাসপোর্ট ছাড়া অন্য কোরো ধরনের শনাক্তকারী পরিচয়পত্র গ্রহণযোগ্য নয়।
রেজিস্ট্রেশন করার পর ওয়েবসাইট থেকে যে প্রবেশপত্র দেওয়া হবে তাতে পরীক্ষার দিন, সময় ও কেন্দ্র উল্লেখ করা থাকবে। পরীক্ষার দিন পরীক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় আরও কী কী নিয়ে যেতে হবে তাও বলা থাকবে প্রবেশপত্রে।

প্রস্তুতি

যেকোনো পরীক্ষায় ভালো করতে হলে প্রয়োজন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি। বছরের বিভিন্ন সময়ে স্যাট পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে, তাই নিজের প্রস্তুতি অনুসারে সময় নির্বাচন করা ভালো। শুরুতেই স্যাট-বিষয়ক বইগুলো থেকে একটি প্র্যাকটিস টেস্ট দিয়ে নেওয়া ভালো। এরপর প্রাথমিক স্কোর বুঝে পরবর্তী প্রস্তুতির পরিকল্পনা নেওয়া দরকার। স্যাটে ভালো স্কোর করার জন্য কোচিংয়ে দৌড়াতেই হবে এমনটি নয়। চাইলে ঘরে বসেও অফিশিয়াল স্যাট স্টাডি গাইড, ব্যারন’স, প্রিন্সটন রিভিউ, কাপলান, গ্রুবার’স, ম্যাকগ্র-হিল ইত্যাদি বইয়ের সাহায্য নিয়ে স্যাট পরীক্ষার জন্য নিজেকে তৈরি করা যায়। এসব বইয়ের সবই ঢাকার নীলক্ষেতে পাওয়া যায়। তা ছাড়া বারিধারায় অবস্থিত আমেরিকান সেন্টারের লাইব্রেরিতেও রয়েছে স্যাটের প্রস্তুতিমূলক বইয়ের চমৎকার সংগ্রহ, যা লাইব্রেরিতে বসে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
তবে সহায়ক বইয়ের পাশাপাশি দরকার হবে নিয়মিত অনুশীলন ও অধ্যবসায়। যেহেতু পরীক্ষাটির সব প্রশ্নই ইংরেজিতে করা হয়ে থাকে, তাই স্যাটে ভালো স্কোর করতে হলে ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজন। এ জন্য সহায়ক বইগুলোর ইংরেজি অংশ অনুশীলন ছাড়াও নিয়মিত ইংরেজি বই ও ইংরেজি খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তথ্যসূত্র: স্যাটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.collegeboard.org)

Tuesday, February 27, 2024

১ কেজি সয়াবিন তেল সমান ১.০৯ লিটার

১ কেজি সয়াবিন তেল সমান ১.০৯ লিটার



সয়াবিন তেলের আপেক্ষিক গুরুত্ব হচ্ছে ০.৯১৭ । তার মানে ১ কেজি সয়াবিন তেল সমান ১/০.৯১৭ = ১.০৯০৫ লিটার । 

সহজ কথায়, ১ কেজি সয়াবিন তেল সমান ১.০৯ লিটার ।

এক লিটার সমান এক কেজি হবে এটা পুরোপুরি ভুল ধারণা। পৃথিবীর প্রতিটি পদার্থের ঘনত্ব বিভিন্ন। 

আবার একই পদার্থ ভিন্ন ভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করলেও ঘনত্বের পার্থক্য থাকবে। যার ফলে ওজনে ভিন্নতা আসতেই পারে।

উদাহরণস্বরূপ হাইব্রিড জাতের গরুর এক লিটার দুধের ওজন আর দেশী গরুর এক লিটার দুধের ওজন একটু হলেও ভিন্নতা আসবে।

নিচে কিছু পদার্থের এক লিটারে ওজন (আসলে ভর) কত আসে তা লিখে দিলাম। সবগুলোই সম্ভাব্য ওজন। 

1 L চিনির সিরাপ = 320 গ্রাম = 0.3 Kg 

1 L কোকাকোলা = 610 গ্রাম = 0.6 Kg 

1 L পেট্রোল = 748 গ্রাম = 0.74 Kg 

1 L অ্যালকোহল = 789 গ্রাম = 0.78 Kg 

1 L কেরোসিন = 800 গ্রাম = 0.8 Kg 

1 L সয়াবিন তেল = 917 গ্রাম = 0.9 Kg 

1 L পাম/ভেজিটেবল তেল = 920 গ্রাম = 0.92 Kg 

1 L পানি = 1004 গ্রাম = 1 Kg 

1 L দুধ = 1030 গ্রাম = 1.03 Kg 

1 L মধু = 1440 গ্রাম = 1.4 Kg 

1 L অলিভ অয়েল = 2200 গ্রাম = 2.2 Kg 

1 L পারদ = 135300 গ্রাম = 13.5 Kg 

সেকারণেই এক লিটার আইসক্রিম কিছুতেই এক কেজি হবে না।অনেক অনেক কম আসবে। আইসক্রিমের আসলে সুনির্দিষ্ট ওজন নেই। উপকরণ, ফ্লেভার, প্যাকেজিং ভেদে এক লিটার আইসক্রিম একেকটার ওজন একেক রকম। 


কোনটা এক লিটারে ৩০০ গ্রামের মতো আবার কোনটা এক লিটারে ৮০০ গ্রামের মতো আসবে। আইসক্রিমে চকোলেট, বিস্কুট, বাদামের আধিক্য বেশি থাকলে ওজনে কম আসতে পারে। এটা অস্বাভাবিক কিছুই না। এটাই পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র। 

কারণ চকোলেট, বিস্কুট, বাদাম পানির তুলনায় হালকা। পাঠ্যপুস্তকে এটা পাবেন চার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক লিটার বিশুদ্ধ পাতিত পানির ওজন এক কেজি। 


Source: https://www.kholakhata.com/2021/06/Litre-Kg-conversion-Mohammad-Fakhrul-Islam.html

স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি পর্যায়ে বিদেশে পড়ার জন্য জিআরই স্কোর

স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি পর্যায়ে বিদেশে পড়ার জন্য জিআরই স্কোর




ইউরোপ-আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষায় বিজ্ঞান, মানবিক বা বাণিজ্য যে বিষয়ে পড়তে চান না কেনো, জিআরই পরীক্ষা ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

জিআরই কী?  

জিআরইর পূর্ণরূপ গ্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশন। সাধারণত একজন শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণী দক্ষতা যাচাই এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য। গবেষণাধর্মী কাজের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণ ক্ষমতা প্রখর হতে হয়। আর সেটি যাচাইয়ের জন্য অনলাইনে ৩ ধাপে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। 

পরীক্ষা পদ্ধতি

জিআরই ২ ভাবে দেওয়া যায়। সাবজেক্ট টেস্ট ও জেনারেল টেস্ট। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীরা মূলত জেনারেল টেস্টই দিয়ে থাকেন। এটি ৩ ধাপে গ্রহণ করা হয়। যেমন:

অ্যানালিটিক্যাল রাইটিং,

ভার্বাল রিজনিং

ও কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং।  

অ্যানালিটিক্যাল রাইটিং

অ্যানালিটিক্যাল অংশটি মূলত লিখিতভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়। শূন্য থেকে ৬ স্কেলের মধ্যে নম্বর দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী কীভাবে বিভিন্ন পরিস্থিতি যাচাই বা মূল্যায়ন করবেন এই অংশে মূলত সেটা পরখ করা হয়। সাধারণত ভালো প্রস্তুতি থাকলে সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৪ পাওয়া যায়। 

এখানে আবার দুটো অংশ থাকে। ইস্যু ও আর্গুমেন্টেটিভ অংশ। প্রতিটি অংশের জন্য আধাঘণ্টা করে মোট একঘণ্টা সময় দেওয়া হয়।              

ভার্বাল রিজনিং
                         
ভার্বাল অংশটির জন্য সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়। এটা ২ ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক ধাপে ২০টা করে প্রশ্ন থাকে, যার জন্য ৩০ মিনিট করে মোট ১ ঘণ্টা সময় পাওয়া যায়। এখানে ৩ ধরনের প্রশ্ন আসে। নিয়মিত ইংরেজি সাহিত্য পাঠ ও বিভিন্ন নিবন্ধ পাঠ করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। 

টেক্সট কমিপ্লিশন

শূন্যস্থান পূরণ। একটা শূন্যস্থান থাকলে ৫টা অপশন, সেখান থেকে একটা সঠিক উত্তর বাছাই করতে হয়। একাধিক শূন্যস্থান থাকলে প্রত্যেকটার জন্য ৩টা কেরে অপশন থাকবে। সেখান থেকে একটা করে বাছাই করতে হয়। 

সেনটেন্স ইকুইভ্যালেন্স

এটাও এক ধরনের শুন্যস্থান পূরণ। তবে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। একটা শূন্যস্থান পূরণের জন্য ৬টা অপশন থাকে, সেখান থেকে দুইটা সঠিক উত্তর বাছাই করতে হয়। ইংরেজি ভাষার শব্দভাণ্ডার ভালো থাকলে এ অংশে ভালো নম্বর পাওয়া যাবে। 

রিডিং কমপ্রিহেনশন

এ অংশে ৩-৪টা অনুচ্ছেদ (প্যাসেজ) থাকে। পড়ে বুঝতে কী বোঝাতে চাচ্ছে। এর জন্য কী কী প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়। একটা প্রশ্ন দিয়ে বলতে পারে, প্যাসেজের কোন লাইন দিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে প্যাসেজ থেকে একটা লাইন সিলেক্ট করতে হবে।

কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং

আরেকটি ধাপ হলো কোয়ান্টেটিভ রিজনিং বা ম্যাথ সেকশন। অর্থাৎ, এ অংশ গণিত সংক্রান্ত বিষয়াদীর প্রাধান্য থাকে। 

এটাও ২ ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক ধাপে ২০টা করে প্রশ্ন মোট ৪০টা প্রশ্ন থাকে। ২০টা প্রশ্নের জন্য ৩৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়। এখানে ৪ ধরনের প্রশ্ন আসে।

স্কোরিং প্যাটার্ন

সব মিলিয়ে জিআরইতে ৩৪৬ নাম্বারের পরীক্ষা নেওয়া হয়। ভার্বাল রিজনিংয়ে ১৭০, কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ে ১৭০ ও অ্যানালিটিক্যাল রাইটিংয়ে ৬ নম্বর। 

জিআরইতে ৩৪৬ নম্বর থাকলেও ভার্বাল রিজনিংয়ে ৪০ নম্বর, কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ে ৪০ নম্বর ও অ্যানালিটিক্যাল রাইটিংয়ে ৬ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নিলে ভার্বাল  কোয়ান্টিটেটিভ অংশে ১৩০ নম্বরের পর থেকে আপনার প্রাপ্ত নম্বর যোগ হবে। 

ভার্বাল ও কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ে মোট ৩৪০ নম্বরের মধ্যে ৩০৫ মোটামুটি স্কোর এবং ৩১৫-এর বেশি হলো ভালো স্কোর। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ৩২০-এর উপরে স্কোর থাকলে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সহজ হয়। তবে মানবিক বা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সাবজেক্টগুলোর জন্য ৩০৫ মোটামুটি মানের স্কোর। 

এ ছাড়া এনালিটিক্যাল রাইটিংয়ে ৩-এর ওপরে পাওয়া উচিৎ।   

কোন দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষা নিতে জিআরই প্রয়োজন

ইটিএস বা এডুকেশনাল টেস্টিং সেন্টারের মাধ্যমে বিশ্বের ১৬০টি দেশের ১ হাজারের বেশি কেন্দ্রে জিআরই পরীক্ষার প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করা হয়। 

সাধারণত আমেরিকা, কানাডা, ইউকে, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হতে  জিআরই'র প্রয়োজন হয়। 

জিআরই স্কোর শিক্ষার্থীদের স্কলারাশিপ বা ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও ভালো ভূমিকা রাখে । বিশেষত বিজ্ঞানের বিষয়গুলো নিয়ে যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও গবেষণায় আমেরিকাতে যেতে চান। আর এ ক্ষেত্রে ভর্তি হওয়ার জন্য জিআরই সবচেয়ে বেশি উপযোগী। 

শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে কেন?  

বাংলাদেশ থেকে জিআরই স্কোরসহ আবেদন করে প্রতিবছর বহু শিক্ষার্থী আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়তে যাচ্ছেন। যদিও আমাদের দেশে অভিভাবক বা তরুণদের বড় একটা অংশের পছন্দ সরকারি চাকরি বা বিসিএস; তবে উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ যাওয়ার জন্য আগ্রহী মানুষের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। 

জিআরইতে যার যত ভালো স্কোর থাকে, তার তত ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডমিশনের সম্ভাবনা থাকে। জিআরইতে ভালো স্কোর থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় হতে ফান্ডিং পেতে সুবিধা হয় ।

 

 



বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আইইএলটিএস পরীক্ষার স্কোর

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আইইএলটিএস পরীক্ষার স্কোর




যুক্তরাজ্য,অস্ট্রেলিয়া,যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা ও ইউরোপের বেশির ভাগ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য আইইএলটিএস পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হয় ।

ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি: আইইএলটিএস অস্ট্রেলিয়া ও কেমব্রিজ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাসেসমেন্ট যৌথভাবে এটি পরিচালনা করে। এর প্রধান উদ্দেশ্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই । যে কোন বয়সের লোক এই পরীক্ষা দিতে পারে । এই পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই । বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য ৯ এর মধ্যে সর্বনিম্ন ৬ স্কোর অর্জন করতে হয় । ভালমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য ৭.৫ এর বেশি স্কোর আবশ্যক ।

আইইএলটিএস পরীক্ষার ধরন

আইইএলটিএস পরীক্ষা ২ ধরনের পদ্ধতিতে নেওয়া হয়। একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং। 

 

একাডেমিক মডিউল

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর অথবা পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য একাডেমিক মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়।

জেনারেল ট্রেনিং

কোনো শিক্ষার্থী যদি কারিগরি বিষয় বা প্রশিক্ষণে ভর্তি হতে চান, তবে তাকে জেনারেল ট্রেনিং মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়। এ ছাড়া যারা ইমিগ্রেশনের জন্য যেতে চান, তাদেরকেও জেনারেল ট্রেনিং মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়।

পরীক্ষা পদ্ধতি

আইইএলটিএস পরীক্ষায় দুই ধরনের মডিউলেই ৪টি অংশ থাকে। 

লিসেনিং (Listening), 

রিডিং (Reading), 

রাইটিং (Writing) ও 

স্পিকিং (Speaking)

লিসেনিং 

রেকর্ডিং কথোপকথন শুনে এ অংশে প্রশ্নের উত্তর করতে হয় পরীক্ষার্থীদের। কথোপকথন শুনে বোঝার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। যেখানে ৪০টি প্রশ্ন থাকে। ৩০ মিনিটে ৪টি অংশে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। একটি বিষয় কেবল একবারই বাজিয়ে শোনানো হয়।

এ অংশে পরীক্ষার্থীদের অ্যাকসেন্ট বুঝতে হয়। তারা ৪ রকম অ্যাকসেন্টের মুখোমুখি হতে পারেন। যেমন- ব্রিটিশ, আমেরিকান, ক্যানাডিয়ান ও অস্ট্রেলিয়ান। 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন অনলাইন ভিডিও ও ইউটিউব ভিডিও, চলচ্চিত্র, খেলার ধারাভাষ্য সহায়ক হতে পারে। 

রাইটিং

এ অংশে ইংরেজি লেখার দক্ষতা যাচাই করা হয়। যেখানে ১ ঘণ্টায় দুটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। দ্বিতীয় প্রশ্নটিতে প্রথম প্রশ্নের চেয়ে বেশি নম্বর থাকে।

রাইটিং-এ ২ ধরণের টাস্ক থাকে। টাস্ক-১-এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন লেখচিত্র বা গ্রাফ-এর বর্ণনা দিতে হতে পারে।

টাস্ক-২-এর ক্ষেত্রে মূলত বিশ্লেষণী দক্ষতা, সমালোচনামূলক মূল্যায়ন এর দরকার হয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন বা সমালোচনামূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধ বিস্তারিতভাবে পড়া থাকলে বেশ সহায়ক হয়। 

এক্ষেত্রে একটি ফরম্যাট অনুসরণ করা যায়। প্রথম ও দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে আগে সূচনা। এরপর মূল কথা বা আইডিয়া, তারপর কারণ বা যৌক্তিক বিশ্লেষণ। সবশেষে উদাহরণ। এ নিয়মটি অনুসরণ করলে স্কোর ভালো এসে থাকে।
 
আবার রাইটিং এর জন্য বিবিসি বা ইকোনোমিস্টের মতো সংবাদমাধ্যমগুলোর নিবন্ধ নিয়মিত পড়ার অভ্যাস থাকলে ভালো হয়। টেড টক বা টেডএক্স-এর মতো অনলাইন পডকাস্টগুলোতে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়। ভিডিওগুলো লেখার পাশাপাশি শোনা ও পড়ার দক্ষতাও বৃদ্ধি করতে পারে। 

স্পিকিং 

স্পিকিং অংশে পরীক্ষার্থীদের মোটামুটি ১১ থেকে ১৪ মিনিটের পরীক্ষা দিতে হয়। প্রথম অংশে পরীক্ষার্থীকে কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হয়, যেমন: পরিবার, পড়াশোনা, শখ ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। 

দ্বিতীয় অংশে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ২ মিনিট কথা বলতে হয়। এর আগে প্রস্তুতির জন্য এক মিনিট সময় দেওয়া হয়। 

তৃতীয় অংশে থাকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষকের সঙ্গে ৪-৫ মিনিটের কথোপকথন।

এ অংশে বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। যেমন- কথার গতি ও সাবলীলতা (ফ্লুয়েন্সি), শব্দভাণ্ডারের বিস্তৃতি (লেক্সিকাল), ব্যাকরণের বৈচিত্র্যময় ও নির্ভুল ব্যবহার (গ্রামাটিক্যাল রেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাকুরেসি) এবং নির্ভুল ও বোধগম্য উচ্চারণ (প্রনানসিয়েশন)।

রিডিং 

এ অংশে পরীক্ষার্থীদের ১ ঘণ্টায় ৩টি অনুচ্ছেদ থেকে মোট ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। বিভিন্ন জার্নাল, বই, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন থেকে কিছু অংশ তুলে দেওয়া হয়ে থাকে। সেখান থেকেই বাক্য পূরণ, সংক্ষিপ্ত উত্তর, সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা ইত্যাদি প্রশ্ন থাকে।

রিডিংয়ের ক্ষেত্রে আগে প্রশ্ন পড়ে নেওয়া ভালো। তা না হলে পুরো অনুচ্ছেদ পড়তে গিয়ে পরীক্ষার্থীরা খেই হারিয়ে ফেলতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যাদের নিয়মিত ইংরেজি পত্র-পত্রিকা পড়ার অভ্যাস আছে তারা ভালো করতে পারেন। ইংরেজি সাহিত্যে দখল থাকলে আরও ভালো। আর বিশেষত ভোকাবুলারি বা শব্দভান্ডার যার যত ভালো, রিডিং টেস্ট বা পড়ে বোঝার ক্ষমতায় তারা ততটাই এগিয়ে থাকেন।